বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বাগ্রে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে হবে এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীলদের নিয়ে ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট তিন দিনব্যাপী আয়োজিত দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত এ শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন।
সেক্রেটারি জেনারেল ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার সুরক্ষা ও গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে নিয়মিত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।
মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মেজাজ ও পরিবেশ ক্ষুণ্ন করতে পারেÑএমন সব কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। পরস্পরের দোষ-ত্রুটি ব্যক্তিগতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা চালাতে হবে। নিজেদের অহংকারমুক্ত রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংগঠনের কাছে এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, তিন দিনের প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত শিক্ষা ধারণ করে আগামী দিনে সংগঠনকে আরও মজবুত, গতিশীল ও গণমুখী করতে হবে। বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ-কুরবানির ফলে অর্জিত সংগঠনের বর্তমান অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে কুরআন-হাদীস অনুশীলন, বই পাঠ এবং বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনা পরিচালনা করেন অঞ্চল টিম ও জেলা/মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ। তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিম।
নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপির নেতৃত্বে নীলফামারী জেলা সংগঠন শিক্ষাশিবিরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।










