কায়রো (মিশর): মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। গত ৫ আগস্ট কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণ, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জনাব নোমান উদ্দিন আজহারী। পরবর্তীতে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দূতালয় প্রধান আতাউল হক, প্রথম সচিব (শ্রম) জনাব জাকির হোসেন, মিশরের বিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইতিহাদ’-এর সভাপতি জনাব নোমানুল করিম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জনাব আল আমিন আকন্দ এবং ইয়াসমিনা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপক জনাব ইব্রাহিম হাসান। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব গৌতম কুমার দে।

দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব গৌতম কুমার দে তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল সাহসী জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান স্মরণ করেন। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা ও অবদানের জন্য তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের এক নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সম্মিলিত লড়াই, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্যোগে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভার পূর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর, যা আমন্ত্রিত অতিথিরা ঘুরে দেখেন। আলোচনা সভার শেষে নৃত্য সহকারে একটি সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে মিশরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশী কর্মকর্তা, শিক্ষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নারী উদ্যোক্তা, প্রবাসী ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং শ্রমজীবীসহ প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।










