স্টাফ রিপোর্টার :
পরিবেশ রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও লোভাছড়াসহ সবকটি পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে আদালতের এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার নাকের ডগায় চলছে অবৈধ পাথর আনলোড, ক্রাশিং ও বিক্রির রমরমা ব্যবসা।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে সুরমা নদীর নৌপথ ব্যবহার করে নিয়মিত লোভাছড়া অঞ্চল থেকে অবৈধ পাথর আনা হচ্ছে। এসব পাথর জকিগঞ্জের আটগ্রাম বাজার সংলগ্ন সেলিং পয়েন্টে প্রকাশ্যে আনলোড করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে বসানো শক্তিশালী ক্রাশার মেশিনে পাথর ভাঙার পর তা বিভিন্ন সাইজের ট্রাকে লোড করে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের দূর-দূরান্তে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জকিগঞ্জ এলাকার এই সুসংগঠিত ও অবৈধ পাথর ব্যবসার পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার উস্তার হোসেন চৌধুরী (ওরফে উস্তার মেম্বার)-এর হাতে। উল্লেখ্য, তিনি কয়েকদিন আগেও অবৈধ পাথর উত্তোলনের দ্বায়ে ভ্রাম্যমাণ মাজিস্ট্রেট আদালতের জরিমানার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
খোলামেলাভাবে অবৈধ এই পাথর ক্রাশিং ও পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন দেশের পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। দিন-রাত ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্রাশার মেশিনের ধুলা ও বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আটগ্রাম বাজার ও আশেপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ। পাথর ক্রাশিং পয়েন্টের পাশেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা, যার কারণে মারাত্মকভাবে বিগ্নিত হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ।
এবিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ ডেইলি জকিগঞ্জ কে জানান, এব্যাপারে এখনো তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কার আশ্রয়ে ও কীসের জোরে এমন প্রকাশ্য অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কার্যক্রম বন্ধে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।










