- গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি
সিলেটের গোয়াইনঘাটে নৌকা শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের “লাইন” দেওয়ার কথা বলে প্রতি নৌকা (বডি) থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির সভাপতি আলিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নৌকা শ্রমিক সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নামে প্রতি বডি থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনও বিভিন্নভাবে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করার কথা বলে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও নৌযান মালিকদের একটি সংগঠন আলিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছিল। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিবাদ ও দাবির পরও চাঁদা আদায় বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে চাই। কোনো সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে।” তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।








