লোড হচ্ছে...
১৪৪ ধারা অমান্য করে জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। - Daily Crime Report

১৪৪ ধারা অমান্য করে জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

August 18, 2026 2:38 PM

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফসলি জমি, গাছপালা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও স্থানীয় কৃষক শাহ আলম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর প্রতাপপুর গ্রামের উসমান গনী, সবুজ মিয়া, ফয়জুল ইসলাম ও মুফাজ্জিল আহমদের বিরুদ্ধে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে বড় বড় গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। মামলার বাদীর দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে তার ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জমি রক্ষায় শাহ আলম সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে ৯৭/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উত্তর প্রতাপপুর মৌজার জেএল নং-৬৬, সাবেক খতিয়ান নং-৮৮, দাগ নং-১ ও ২ এবং বিএস দাগ নং-১১৬সহ মোট প্রায় সাত বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। এর মধ্যে এক একর জমি সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে। জমির নিয়মিত নামজারি, ডিসিআর ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্যও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

শাহ আলমের দাবি, প্রায় ২৫ বছর ধরে তারা ওই জমিতে চাষাবাদ ও গাছপালা রোপণ করে আসছেন। সম্প্রতি বিবাদীরা তার জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং তার প্রয়াত পিতার কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি ক্রয়ের একটি কথিত দলিল দেখিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর গোয়াইনঘাট থানার এসআই নাইমুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী ফয়জুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২১ সালে শাহ আলমের পিতা আব্দুল গনীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ১ একর ৬৫ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন তারা। বর্তমানে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ ও পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করে ভোগদখলে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এ উদ্দেশ্যে তিনি কারও কাছে জমি বিক্রিও করেননি।

ফয়জুল ইসলামের ভাষ্য, শাহ আলম নিজেই মামন নামে এক ব্যক্তির কাছে ২৫ শতক জমি বিক্রি করেছেন এবং তারাই ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করছেন। তার দাবি, পিতা জীবিত অবস্থায় জমি বিক্রি করলেও এখন তা অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই নাইমুল হাসান বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের নোটিশ প্রাপ্তির পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বালু উত্তোলনের কারণে একটি গাছ কাটা হয়েছে, যা জব্দ করে তৃতীয় পক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিবাদীপক্ষকে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে দখলসংক্রান্ত সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, জমির মালিকানা বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
🔗 0 শেয়ার
ফন্ট সাইজ:

Leave a Comment