লোড হচ্ছে...
গোয়াইনঘাট বিছানাকান্দি সীমান্তে বেপরোয়া ইয়াবা কারবার: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ - Daily Crime Report

গোয়াইনঘাট বিছানাকান্দি সীমান্তে বেপরোয়া ইয়াবা কারবার: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

July 28, 2026 11:02 PM

বিশেষ প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
সিলেটের সীমান্তবেষ্টিত এলাকা গোয়াইনঘাটে হঠাৎ করেই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে অবৈধ ইয়াবা ও মাদকের ব্যবসা। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা প্রত্যন্ত রুটগুলোকে ব্যবহার করে একাধিক মাদক কারবারি চক্র দিন-রাত সমানে সীমান্ত পার করে নিয়ে আসছে মরণনেশা ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও কিছু চোরাচালানির হাত ধরে বিছানাকান্দি ইউনিয়নে বগাইয়া মুসলিম পাড়া, লিডারপাড়া, দমদমিয়া,ভিতরগুল,বাদেবাসা,সহ বিভিন্ন রোড দিয়ে এলাকাটিতে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে এই ইয়াবা, যা তরুণ ও যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক হুমকির মুখে।এসব কারনে চুরি ডাকাতি দিন দিন বেড়েই চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিছানাকান্দি সহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকাগুলোকে ‘নিরাপদ ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইয়াবা কারবারিরা। ভারতের পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে রাতের আঁধারে এবং অনেক ক্ষেত্রে দিনের আলোতেও কৌশলে ইয়াবার ছোট-বড় চালান দেশে প্রবেশ করছে।তাদের মধ্যে রয়েছে বিছানা কান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া মুসলিম পাড়া গ্রামের, জামাল হোসেন,আমির হোসেন, লিডার পাড়ার সেলিম, কুপা গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে সেলিম, কুপা গ্রামের আব্দুল আলিম সহ আরও অনেকে। আব্দুল আলিমের ঘরে প্রতিদিন চলে মাদক সেবন এবং ধংস হচ্ছে যুবসমাজ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, এমনকি শাকসবজি বা মালামাল বহনের আড়ালে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

খুচরা বিক্রেতাদের নেটওয়ার্ক: সীমান্তের পার ঘেঁষে থাকা বিভিন্ন হাট-বাজার, চা বাগান ও নির্জন স্পটগুলোতে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা এই ট্যাবলেট।

সীমান্ত এলাকায় ইয়াবার এই সহজলভ্যতায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকেরা। মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় এক শিক্ষক ও সমাজসেবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন যেভাবে ইয়াবা আসছে, তাতে আমাদের এলাকার তরুণ ও ছাত্রসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট কিশোররাও এখন ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে না দিলে ভবিষ্যতের দিনগুলো আরও ভয়াবহ হবে।এবং এই ব্যবসায় জরিত গড ফাদার কে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ও পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অভিযানে বড় আকারের ইয়াবার চালানসহ কয়েকজন কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক চোরকারবারিদের তালিকা তৈরি করে সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন
🔗 0 শেয়ার
ফন্ট সাইজ:

Leave a Comment